একদিনের জন্য় ঘুরে আসুন বিভূতিভূষণ অভয়ারণ্য

বিভূতিভূষণ অভয়ারণ্য : একদিনে কলকাতার কাছেই ঘোরার স্থান 

              অভয়ারণ্য বলতেই বাঙালির মনে ফুটে ওঠে জলদাপাড়া বা সুন্দরবনের কথা। অভয়ারণ্যের বন্যতার স্বাদ পেতে দূরদূরান্তে ছোটে বনপ্রিয় বাঙালি। কিন্তু অনেকেই জানে না একটি অভয়ারণ্যের কথা। উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা-ই তার ঠিকানা। ‘বিভূতিভূষণ অভয়ারণ্য‘ বা ‘পারমোদন ফরেস্ট’।
               সবুজ বন চিরকালই আমাকে টানে। তাই যখন গুগল বাবাজীর কাছ থেকে এত কাছে অভয়ারণ্যের একটা ঠিকানা পেলাম, তখন আনন্দে লাফ মেরে উঠেছিলাম। বেশ পছন্দ হয়েছিল ‘পারমোদন’কে। তাই আর দেরি না করে পাড়ার বন্ধু সুব্রতকে বলে রেখেছিলাম বেরোনোর কথা। কথা ছিল দুজনেই সময় করে বেড়িয়ে পড়ব।

           কিন্তু ব্যাপারটায় একটা গোল বাঁধল। সুব্রত ওর পরীক্ষা শেষ হতেই বসিরহাট গেল ওর দেশের বাড়ি। কথা ছিল ঠিক সময়ে ফিরে আসবে। কিন্তু দিনের পর দিন গেল। সুব্রত রাজপুত্তুরের আর পাত্তা নেই। আমার মাথায়ও কেমন  একটা গোঁ চাপল। “কেউ না যাক, আমি একাই যাবো” । অগ্যতা বনগাঁর এক ভাইকে ফোন করে ভালো করে জেনে নিলাম ঠিকানাটা। 

যাওয়া
        সকাল ১০ টা ৪৫ এর বনগাঁ লোকাল ধরে যখন বনগাঁ স্টেশনে পৌঁছালাম তখন ১২ টা বেজে ১৫। বনগাঁ স্টেশন থেকে যাওয়ার কথা মতিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে। স্টেশন থেকে নেমে ভ্যান স্ট্যান্ডে গিয়ে জানা গেল মতিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে যেতে হলে ভ্যান ধরতে হবে। অগ্যতা উঠলাম ভ্যানে। ভ্যানে করে মিনিট পনেরো যাবার পর এলাম মতিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে।খবর নিয়ে জানা গেল পারমোদন ফরেস্টে যেতে হলে আগে নামতে হবে কলমবাগান বাজারে। সেখান থেকে অটো ধরে তবেই পারমোদন ফরেস্ট। কপালটা ভালোই মনে হল, জানা গেল কলমবাগান যাবার বাস তক্ষুনি ছাড়বে। দেরি না করে উঠে পড়লাম বাসে। বাস কন্ডাক্টর দশ টাকা নিয়ে টিকিট দিয়ে গেলেন। মিনিট তিরিশেক যাবার পর কন্ডাক্টর জানিয়ে দিল কলমবাগান চলে এসেছে।

পার্টি অফিস দখলকে কেন্দ্র করে আবারও সরগরম ব্যারাকপুর, আক্রান্ত অর্জুন সিং

      নেমে একটু খোঁজ নিতেই পাওয়া গেল পারমোদন ফরেস্ট যাবার অটো। ধরলাম অটো। গ্রামের পিচ ঢালা রাস্তার বুক দিয়ে সজোরে চলতে লাগল অটো।অটোতে আমি ছাড়াও বসেছিলেন আরো চার-পাঁচ জন। রাস্তায় যেতে যেতে অটোর যাত্রী চার থেকে তিন হলো, তিন থেকে দুই হলো—- দুই থেকে অবশেষে আমি একায় গিয়ে ঠেকলাম। ৩০ মিনিট অটো চলার পরেও অটো ড্রাইভার জানালো, আরো মিনিট পনেরো লাগবে। আমাকে নিয়েই অটো চলতে লাগল, আর আমি কয়েকটা ছবি তুলতে থাকলাম। পাক্কা ৪৩ মিনিট পর অটোওয়ালা আমাকে এক জায়গায় নামিয়ে বললেন, এখান থেকে সোজা গিয়ে ডানদিকে গেলেই পারমোদন ফরেস্ট। ভাড়া মিটিয়ের দিতেই অটোওয়ালা চলে গেল। ড্রাইভারের বলা রাস্তায় একটু এগিয়েই বাঁ হাতে বিশাল বন দেখে বুকের ভিতর ১০০ টা বাহুবলী বিজয়োল্লাস করতে শুরু করেছিল। রাস্তার পাশেই স্থানীয় এক মহিলা দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর কাছে শুনে মিনিট ১০ এক হেঁটেই পৌঁছানো গেল মেইন গেটের সামনে। [ পুরোটা পড়তে ক্লিক করুন]


বিভূতিভূষণ অভয়ারণ্য : একদিনে কলকাতার কাছেই ঘোরার স্থান 

একা না, অন্যকেও জানান। শেয়ার করুন -

আপনার মতামত জানান

প্রতি মুহূর্তে থাকবেন আপডেট। লাইক করুন Facebook পেজ