কাছেই রয়েছে এই দর্শনীয় স্থান, ছোট্ট ছুটিতে ঘুরে আসার ঠিকানা বেলুড় রাসবাড়ি

কাছেই রয়েছে এই দর্শনীয় স্থান, ছোট্ট ছুটিতে ঘুরে আসার ঠিকানা বেলুড় রাসবাড়ি

বেলুড় ঃ সাড়া সপ্তাহে কর্মব্যস্ততায় ডুবে থেকে ছুটির দিনে মন তো চাই-ই কোথাও না কোথাও ঘুরতে যেতে তাই নয় কি? কিন্তু ছুটির মেয়াদ যে বড্ড কম। তাহলে কোথায় যাবেন সেই নিয়েই ভাবনা তাই না?

কিন্তু, জানেন কি কলকাতা থেকে হুগলি নদী পার করে গঙ্গার পাড়ে রয়েছে এমন এক জায়গা যেখানে বেড়ানোর সাথে সাথে আপনি পরিচিত হতে পারবেন বাংলার মন্দির স্থাপত্যের। সঙ্গে, জানতে পারবেন ইতিহাসের টুকরো গল্প।

হাওড়া স্টেশন থেকে সড়কপথে পৌঁছতে লাগবে আধ ঘণ্টা থেকে চল্লিশ মিনিট। আবার দক্ষিণেশ্বর মন্দির থেকে ফেরি চড়ে বেলুড় মঠ পৌঁছেও যাওয়া যেতে পারে। বছরের যে কোনও সময় যাওয়া যেতে পারে, থাকতেও পারেন দু-এক রাত। এই শীতের আমেজ থাকতে থাকতে পিকনিকও সেরে আসতে পারেন।

জি টি রোড থেকে ঢুকতেই প্রথমে নজরে পড়বে নবরত্ন বিশিষ্ট রাধারমণ জিউ মন্দির যার উল্টো দিকে নাটমন্দির। মন্দিরের চাতাল পার হয়ে গঙ্গার দিকে যেতে কোরিন্থিয়ান পিলারে সাজানো ঘড়িঘর, হয়তো বিশিষ্ট অতিথিদের এখানে অভ্যর্থনা জানানো হতো। ঘড়িঘরের দু-ধারে তিনটি করে আটচালা শিবমন্দির। ঘড়িঘরের ঠিক পিছনে রাসবাড়ির নিজস্ব ঘাট, যা নেমে গিয়েছে একেবারে গঙ্গার কোলে।

এছাড়া, শিব মন্দিরের সারির দু-ধারে একটি করে নহবতখানা। রাধারমণ জিউয়ের মন্দির পার করে রাস মঞ্চ। এছাড়া ঠাকুরের ভোগ রান্নার ঘর ইত্যাদি তো আছেই। রাসমন্দির পার করে একটি পুরনো বাড়িকে সুন্দর ভাবে মেরামতি করে তৈরি হয়েছে গেস্ট হাউস। গেস্ট হাউসের পিছনে মখমলি সবুজ ঘাসের লন যার ওপারে বয়ে যাচ্ছে গঙ্গা নদী। এখানে দাঁড়িয়ে দেখতে পাবেন ফেরি নৌকোর আনাগোনা, ভগিনী নিবেদিতা সেতু, বালি ব্রিজ আর দক্ষিনেশ্বর মন্দিরের চূড়া।

গেস্ট হাউস পার করে একটি নতুন তিনতলা বাড়ি যেখানে দোতলা ও তিনতলায় রয়েছে আরও চারটি থাকার ঘর। একতলায় ডাইনিং হল। এই নতুন বাড়িতে যাওয়ার পথে দেখবেন একটি ছোট্ট বাগানের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের এক বিশাল মূর্তি। প্রথমবার বিদেশ থেকে ফেরার পর স্বামীজিকে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তখন এই রাসবাড়ি প্রাঙ্গণেই স্বামীজি শ্রীরামকৃষ্ণের জন্ম তিথি পালন করেন। এই মূর্তি সেই স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেয়।

তাহলে একদিনের জন্য পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে গন্তব্য হতেই পারে কিন্তু বেলুড় রাসবাড়ি।

একা না, অন্যকেও জানান। শেয়ার করুন -

প্রতি মুহূর্তে থাকবেন আপডেট। লাইক করুন Facebook পেজ